৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই বকেয়া সুদ পেতে পারেন ইপিএফ গ্রাহকরা

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই ৮.৫৫ শতাংশ হারে বকেয়া ইপিএফ সুদ পেতে পারেন কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ইপিএফ) গ্রাহকেরা। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে। ওইসময়ের পরেই নিজেদের প্রভিডেন্ট ফান্ড স্টেটমেন্টে ইপিএফ সুদের নয়া হারের অন্তর্ভুক্তিও দেখতে পারবেন গ্রাহকেরা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের ইপিএফ সুদের নয়া হার ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক। কিন্তু তারপর প্রায় সাত মাস কেটে গেলেও নতুন সুদ পাচ্ছেন না ইপিএফ গ্রাহকেরা। নতুন হারে সুদ লাগু হওয়ার এই অস্বাভাবিক দেরির জন্য ইতিমধ্যেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যানুয়াল অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম এবং ইসিআর (ই-চালান-কাম-রিটার্ন) রিভিশনের দেরির জন্যই এই সমস্যা হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসের আগেই যাবতীয় কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, নতুন হারে সুদ পাওয়া চালু হয়ে গেলে উপকৃত হবেন প্রায় ছ’কোটি ইপিএফ গ্রাহক।
কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন (ইপিএফও) সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫২ সালের ইপিএফ আইন অনুসারে, সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরের একেবারে শেষ দিন থেকেই নতুন হারে ইপিএফ সুদ দেওয়া শুরু করতে হবে গ্রাহককে। অর্থাৎ ৩১ মার্চ থেকেই তা কার্যকর করতে হবে। কিন্তু ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৮.৫৫ শতাংশ হারে ইপিএফ সুদ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৬-১৭ সালে এর হার ছিল ৮.৬৫ শতাংশ। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে ইপিএফে সুদের হার ছিল ৮.৮ শতাংশ। পরের পর ইপিএফে সুদে হার কমিয়ে মধ্যবিত্তের পকেটে সরাসরি ধাক্কা দেওয়া নিয়ে এমনিতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল। তার উপর নয়া হারে সুদ লাগু করা নিয়েও ইপিএফ গ্রাহকদের মধ্যে সরকার বিরোধী ক্ষোভ চরমে উঠেছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে এটি যাতে বিরোধীদের অন্যতম কেন্দ্র-বিরোধী ইস্যু না হয়ে যায়, তা সামাল দিতেই দ্রুত নয়া হারে সুদ দেওয়ার পরিকল্পনা সরকার করেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫২ সালের নিয়ম অনুসারে ৩১ মার্চ থেকেই নতুন সুদ লাগু করার নিদান দেওয়া হলেও এই বছর কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তা করা যায়নি। সেই ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পরেই তা লাগু করা হয়েছে। কিন্তু প্রভিডেন্ট ফান্ড স্টেটমেন্টে তা দেখতে না পাওয়ার কারণ কী? এই পরিপ্রেক্ষিতেই ই-চালান-কাম-রিটার্ন রিভিশনের প্রসঙ্গটি টানছে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক। যদিও ইপিএফও’র ব্যাখ্যা, প্রভিডেন্ট ফান্ড স্টেটমেন্টে নতুন সুদের অন্তর্ভুক্তি গ্রাহকেরা দেখতে পাচ্ছেন না ঠিকই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, গ্রাহকেরা সেই সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। বরং ওই সময়ের মধ্যে যদি কেউ তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টের যাবতীয় টাকা তুলে নিতে চাইতেন, তাহলে তিনি নতুন হারের সুদ সমেতই তা ফেরত পেতেন। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে ন্যূনতম ২০ জন কর্মী রয়েছেন, এমন সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মচারীর মাসিক সর্বোচ্চ বেতন ১৫ হাজার টাকা, তাঁরা বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ইপিএফের আওতায় থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com