পেট্রাপোল সীমান্তে জঙ্গি সন্দেহে ধৃত দুই, মিলল সেনার নকশা ও অফিসারদের নাম

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সীমান্ত পেরনোর আগেই পেট্রাপোলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিসের হাতে ধরা পড়ল সন্দেহভাজন দুই বাংলাদেশি। তাদের কাছ থেকে মিলল ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কমান্ডের নকশা এবং গুরুত্বপূর্ণ অফিসারদের নাম। উদ্ধার হয়েছে জাল নোটও। এইসব বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে চালান হতো বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারী অফিসাররা নিশ্চিত, ওই দুই ব্যক্তি আসলে জঙ্গি। কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। কোন সংগঠনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজু গাজি ও আতাউর রহমান নামে দুই ব্যক্তি বাংলাদেশ যাওয়ার জন্য পেট্রাপোল সীমান্তে যায়। বাসে করেই তারা সেখানে গিয়েছিল। ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময় তাদের জমা দেওয়া নথি দেখে সন্দেহ হয় অফিসারদের। কথাবার্তায় অসঙ্গতি মেলায় ইমিগ্রেশন দপ্তরের কর্তারা বুঝতে পারেন, তারা কিছু গোপন করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে যাওয়া নিয়ে তারা বিভিন্ন যুক্তি খাড়া করছে। এরপরই খবর দেওয়া পেট্রাপোল থানায়। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই দু’জনকে। জাল নোটের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে তারা।
তদন্তে জানা যাচ্ছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। সীমান্ত পেরিয়ে তারা স্বরূপনগরে আসে। ভুয়ো নথি দিয়ে ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড বানিয়ে ফেলে। তার ভিত্তিতে পাসপোর্টও তৈরি করে। তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কমান্ডের নকশা। জেলা পুলিস ও আদালত সূত্রের খবর, তাদের কাছে নর্দান কমান্ড, ইস্টার্ন কমান্ড, সাদার্ন কমান্ড সহ একাধিক কমান্ডের ছবি পাওয়া গিয়েছে। এমনকী নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গার ছবিও মিলেছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অফিসারের নাম, তাঁরা কোথায় পোস্টিং, সেইসব তথ্যও তারা জোগাড় করেছিল। এরপরই তদন্ত অন্যদিকে মোড় নেয়। কিন্তু এই ছবি ও সেনা কর্তাদের পোস্টিংয়ের তথ্য তারা কীভাবে পেল, তা খোঁজখবর করে দেখা হচ্ছে। সর্ষের মধ্যেই ভূত রয়েছে কি না, তা জানতে তাদের জেরা করা হচ্ছে। জাল নোট কারবারের সুবাদেই তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছে। সেখান থেকে এগুলি সংগ্রহ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অফিসাররা মনে করছেন, তাদের আরও শাগরেদ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যারা তাদের এই সব নথি জুগিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অফিসাররা মনে করছেন, এগুলি বাংলাদেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়া হতো। যাদের মাধ্যমে এই নথি পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হাতে যেত বলে অনুমান। ধৃতরা নিজেরাও কোনও না কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তারা একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছে। সেখানে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। আজ শনিবার তাদের আদালতে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com