গুলি বিনিময়, জখম ৮ জওয়ান কাশ্মীরে নিহত দুই পাক জঙ্গি

জম্মু, ১৩ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): আত্মগোপনকারী জঙ্গিদের খোঁজে শুরু হওয়া ব্যাপক তল্লাশি অভিযানের দ্বিতীয় দিনেই সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। তিন সন্দেহভাজন জয়েশ-ই-মহম্মদ জঙ্গির নাগাল পেতে গত বুধবার থেকে জম্মু-কাশ্মীরের ঝাঝর কোটলির জঙ্গল এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছিল নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার হল লক্ষ্যপূরণ। বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হল দুই কট্টর পাক জঙ্গির। যদিও, বাকি এক জঙ্গির হদিশ এখনও মেলেনি।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ তল্লাশি অভিযানে অংশ নিয়েছিল পুলিস, সিআরপিএফ এবং সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। অভিযান চলাকালীন রিয়াসি জেলার কাকরিয়াল এলাকার একটি বা঩ড়ির সামনে এসে সন্দেহ হয় নিরাপত্তা বাহিনীর। বাড়িটিকে জওয়ানরা ঘিরে ফেলতেই জঙ্গিরা ভিতর থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিরোধ করলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলির লড়াই শুরু হয়ে যায়। রাতভর চলে সংঘর্ষ। পুলিস জানিয়েছে, সংঘর্ষে ২ সন্দেহভাজন জয়েশ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, এই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৮ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সিআরপিএফের ৫ জওয়ান এবং ডিএসপি মোহন লাল সহ ৩ জন পুলিসকর্মী রয়েছেন। আহতদের সকলকেই কাটরার নারায়ণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়েতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর গুলি চালায় তিন সন্দেহভাজন জয়েশ জঙ্গি। জম্মুর এসএসপি বিবেক গুপ্তা জানান, ওইদিন সকাল আটটা নাগাদ সন্দেহজনক একটি ট্রাককে দাঁড়াতে বলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। কিন্তু, সেটি দাঁড়ায়নি। উল্টে ট্রাক থেকে জঙ্গিরা গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। ট্রাকের চালক ও খালাসিকে আটক করা গেলেও, তিন জঙ্গি পালিয়ে যায়। অভিযোগ, হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা শহরের উপকণ্ঠে ঝাঝর কোটলি এবং নাগরোটার মাঝামাঝি জঙ্গলের মধ্যে গা-ঢাকা দেয়। তাঁদের খুঁজতে রীতিমতো ড্রোন ও চপার নিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিসের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযান চলাকালীন এক গ্রামবাসী নিরাপত্তা বাহিনীকে জানান, বুধবার রাতে ওই তিন জঙ্গি তাঁর বাড়িতে এসে খাবার এবং পোশাক চেয়েছিল। শুধু তাই নয়, কাশ্মীর যাওয়ার জন্য জঙ্গিরা একটি গাড়িও চেয়েছিল। কিন্তু, ওই পরিবারের কাছে কোনও গাড়ি ছিল না।
ওই গ্রামবাসী বলেন, ‘ওরা আমার বাড়িতে রাত ৮টা নাগাদ এসেছিল। যুদ্ধের পোশাক পরেছিল ওরা। আমার কাছে সেগুলি পাল্টানোর জন্য পোশাক চায়। খাবারও চেয়েছিল। কয়েকটা বিস্কুট আর জল খেয়ে ওরা সোয়া ন’টা নাগাদ বেরিয়ে যায়।’ জঙ্গিরা যতক্ষণ বাড়িতে ছিল ততক্ষণ পরিবারের সকলকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল বলে জানান ওই গ্রামবাসী। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিরা বেরিয়ে যেতেই অবশ্য ওই পরিবারটি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে গোটা ঘটনাটি জানিয়ে দেয়।
আপাতত জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ে বরাবর চেকপোস্টগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এলাকায় চেকপোস্টের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। গাড়িগুলির পাশাপাশি যাত্রীদেরও তল্লাশি করা হচ্ছে। পুলিসের এক আধিকারিকের কথায়, আপাতত ঝাঝর কোটলি জঙ্গল এবং সংলগ্ন এলাকা কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রেখেছে বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com