রেশনে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন মিশ্রিত চাল সরবরাহে উদ্যোগী হল কেন্দ্র

কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: রেশনে এবার ‘পুষ্টিকর’ চাল সরবরাহ করতে উদ্যোগী হল কেন্দ্রীয় সরকার। আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন মিশ্রিত চাল সরবরাহ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সহ সব রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রক। প্রতি রাজ্যের একটি জেলাতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এটি চালু করতে বলা হয়েছে। পরে এই প্রকল্প সম্প্রসারিত হবে। এর জন্য যে অতিরিক্ত খরচ হবে, তা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ভাগ হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি ছাড়া অন্য রাজ্যের খরচের ৭৫ শতাংশ কেন্দ্রীয় সরকার দেবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্ষেত্রে এটা হবে ৯০ শতাংশ। চালের পুষ্টিগুণ বাড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে রাইস মিলে। এর জন্য যে যন্ত্রপাতি বসাতে হবে, তার খরচ পড়বে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। প্রথম বছরে যন্ত্রপাতি বসানো সহ ৪৮ হাজার টন পুষ্টিকর চাল উৎপাদনের খরচ পড়বে প্রায় ৩ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। পুরো খরচই বহন করবে সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার যে গাইডলাইন দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, পুষ্টিকর চালের সঙ্গে সাধারণ চাল ১: ১০০ অনুপাতে মিশিয়ে রেশন দোকানে সরবরাহ করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সহ অনেক রাজ্যে রেশন দোকানে পুষ্টিকর আটা সরবরাহ হয়। ফ্লাওয়ার মিলে গম থেকে আটা উৎপাদনের সময় নির্দিষ্ট অনুপাতে ভিটামিন, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন প্রভৃতি মেশানো হয়। বৃহত্তর কলকাতা ও আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিধিবদ্ধ রেশন এলাকা বাদ দিয়ে রাজ্যের বাকি এলাকায় এখন গমের বদলে রেশন গ্রাহকদের এই আটা দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার এবার রেশনে পুষ্টিকর চাল সরবরাহ করতে কেন উদ্যোগী হচ্ছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা খাদ্যমন্ত্রকের চিঠিতে জানানো হয়েছে। এতে পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে, দেশের মহিলা, শিশু ও পুরুষদের একটা বড় অংশ রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগে আক্রান্ত। পাঁচ বছর বয়সি শিশু ও সন্তানের জন্ম দেওয়ার উপযুক্ত বয়সের মহিলাদের মধ্যে এই হার ৫০ শতাংশের বেশি। সব বয়সির ৫০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে পুষ্টিকর সামগ্রীর অভাব লক্ষ করা গিয়েছে। খাদ্যসামগ্রীর পুষ্টিগুণ বাড়ানোর প্রধান উপায় হল চাল ও আটাতে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ যুক্ত করা। ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে অর্গানাইজেশনের (এনএসসও) সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষের প্রধান খাদ্য হল চাল। রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সবথেকে বেশি সরবরাহ করা হয় চাল। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে রেশন ব্যবস্থা, স্কুলের মিড ডে মিল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খাদ্য হিসেবে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল সরবরাহ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চালের পুষ্টিগুণ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হলে তাতে দেশের একটা বড় অংশের মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে। ওড়িশার গজপতি ও ঢেঙ্কানল জেলায় স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্পে পরীক্ষামূলকভাবে পুষ্টিকর চাল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই ব্যবস্থা সেখানে খুবই কার্যকর হয়েছে। এই ওড়িশা মডেল গোটা দেশে চালু করতে চাইছে কেন্দ্র।
কীভাবে এই পুষ্টিকর চাল উৎপাদন ও সরবরাহ করা হবে, তার গাইডলাইন কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করে দিয়েছে। যে জেলায় রাজ্য সরকারগুলি এই পাইলট প্রজেক্ট চালু করতে চাইবে, সেখানকার বিস্তারিত কিছু তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। ওই জেলায় রেশন, মিড ডে মিল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চালের মোট ব্যবহার, রাইস মিলের পরিকাঠামো প্রভৃতি তথ্য পাঠাতে হবে। ওই জেলায় রাইস মিল না থাকলেও প্রকল্পটি চালু করা যাবে। সেখানে মিলের বদলে গুদামে নির্দিষ্ট অনুপাতে সাধারণ ও পুষ্টিকর চাল মেশাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com