প্রাণীবন্ধু সহ ৩ শ্রেণীর কর্মীরা ইনসেনটিভের সঙ্গে পাবেন মাসিক দেড় হাজার টাকা ভাতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে দুধ, ডিম উৎপাদন বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দিয়েছে সরকার। এই কাজে বড় ভূমিকা রয়েছে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় কর্মরত প্রাণীবন্ধু, প্রাণীসেবী ও প্রাণীমিত্র-দের। এই কর্মীরা এতদিন কাজের উপর ইনসেনটিভ হিসেবে টাকা পেতেন। রাজ্য সরকার এই কর্মীদের মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর সঙ্গে কাজের উপর যে ইনসেনটিভ মিলত, সেটা থাকছে। এই কর্মীরা গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গবাদি প্রাণীর কৃত্রিম প্রজনন, টিকা দেওয়ার কাজ করেন। হাঁস, মুরগির টিকাকরণের কাজও এই কর্মীদের মাধ্যমে হয়।
দুধ, ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই কাজগুলি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গোরু-মহিষের দুধ উৎপাদন অনেক বাড়ানো সম্ভব। প্রাণীমিত্ররা গ্রামে ঘুরে ঘুরে এই কাজ করেন। গবাদি পশু ও পোলট্রির হাঁস-মুরগির একশো শতাংশ টিকাকরণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। টিকা দেওয়া হলে হাঁস-মুরগির মৃত্যুর হার কমবে। তা হলে স্বাভাবিকভাবেই ডিমের উৎপাদন বাড়বে। প্রাণীমিত্রদের সক্রিয়ভাবে কাজে নামাতে পারলে তবেই একশো শতাংশ টিকাকরণ সম্ভব।
দুধ ও ডিমের জন্য এখনও ভিন রাজ্যের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গ। এই দু’টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর উপর তাই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে হাঁস, মুরগির ছানা বিলি করা হচ্ছে। পোলট্রি করলে সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুরগির মাংস উৎপাদনে রাজ্য স্বয়ম্ভর। কিন্তু ডিম উৎপাদনে ঘাটতি আছে। এখনও দৈনিক প্রায় এক কোটি ডিম ভিন রাজ্য বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে নিয়ে আসতে হয়। একদিকে পোলট্রিতে, অন্য঩দিকে ঘরে পালিত হাঁস-মুরগির ডিম উৎপাদন বাড়লে ভিন রাজ্যের উপর নির্ভরশীলতা থাকবে না।
প্রাণীবন্ধু সহ তিন শ্রেণীর কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। কৃত্রিম প্রজনন, টিকাকরণ প্রভৃতি কাজ করলে যে সামান্য টাকা ইনসেনটিভ হিসেবে দেওয়া হতো, তাতে এই কর্মীরা কাজে বিশেষ আগ্রহ পেতেন না। ফলে গ্রামীণ এলাকায় কাজ আশা অনুযায়ী এগচ্ছিল না। এই অবস্থায় নির্দিষ্ট টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে কাজে আগ্রহ বাড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত প্রাণীবন্ধু সংগঠনের নেতা মনোজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অনেক চেষ্টার পর দেড় হাজার টাকা ভাতার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এই নির্দেশিকা দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের উদ্যোগী হওয়া উচিত। কয়েক মাস আগে নির্দেশিকা জারি হলেও এখনও মাসিক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। এটা চালু না হলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com