তেলের দাম ১ টাকা কমালেন মমতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রোজ পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ায় মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। সাধারণ মানুষকে সুরাহা দিতে পেট্রল-ডিজেলের দাম লিটার প্রতি এক টাকা করে কমালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে বেলুড় মঠ যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিজেপি সরকারের আমলে পেট্রপণ্যের উপরে এক্সাইজ ডিউটি ন’বার বাড়ানো হয়েছে। পেট্রলে কর ৯ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে হয়েছে ১৯ টাকা ৪৮ পয়সা। অর্থাৎ বেড়েছে ১০ টাকা। ডিজেলের উপরে কর ৩ টাকা ৫৬ পয়সা থেকে হয়েছে ১৫ টাকা ৩৩ পয়সা। বেড়েছে ১১ টাকা ৭৭ পয়সা। রাজ্য সরকার কোনও সেস পায় না। যেসব রাজ্যে সামনে নির্বাচন রয়েছে, তারা একটাকা-দেড় টাকা কমিয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ দু’টাকা কমিয়েছে। তামিলনাড়ু যা করেছে, তা আমরা পারব না। কারণ ওদের আয় তো আমাদের থেকে দ্বিগুণ। আমাদের মতো এত ঋণের বোঝাও নেই। আমাদের সরকারকে ৪৮ হাজার কোটি ঋণ শোধ করতে হয়। এর উপরে প্রতিদিন পেট্রলের দাম বেড়ে চলেছে। আর্থিক অরাজকতা চলছে দেশে। আমরা এক টাকা করে লিটার প্রতি দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চাই, কেন্দ্রীয় সরকার সেস প্রত্যাহার করে নিক।
এদিন রাত ১২টা থেকে জ্বালানির দাম কমানো সংক্রান্ত মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কার্যকর হবে। রাজ্যের বিক্রয় কর থেকে ওই টাকা ছাড় দেওয়া হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। বিজেপি সরকারের আমলে কী হারে পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী তাও উল্লেখ করেন। তিনি এক প্রেস নোটে জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে পেট্রলের দাম ছিল ৬৫ টাকা ১২ পয়সা। এই সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৮১ টাকা ৬০ পয়সা। লিটার প্রতি বেড়েছে ১৬ টাকা ৪৮ পয়সা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ডিজেলের দাম ছিল ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা। চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ লিটার প্রতি বেড়েছে ২৪ টাকা ৪৬ পয়সা। এটা সাধারণ মানুষকে আঘাত করছে। আমরা কখনই বিক্রয় কর বা সেস বাড়াইনি। আমাদের সরকার মানুষের কথা চিন্তা করে। কিন্তু মানুষকে হয়রানি করছে কেন্দ্রীয় সরকার।
পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিজেপি বিরোধী দলগুলি আন্দোলন শুরু করেছে। ভারত ব‌ন্‌ধ হয়েছে। তবুও রোজ বাড়ছে জ্বালানির দাম। এই অবস্থায় মানুষকে কিছুটা রিলিফ দিতে পেট্রল-ডিজেল প্রতি এক টাকা করে কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পেট্রলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা তুষার সেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা হলেও সুরাহা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারেরও উচিত, তাদের করের পরিমাণ কমানো। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ১১.৭৭ শতাংশ সেস বাড়িয়েছে। এই সেস তুলে দেওয়া উচিত। গত দু’বছর-আড়াই বছরে পেট্রল-ডিজেলের দাম বেড়ে চলছে। রোজ দাম বাড়ছে। মানুষ হয়রান হচ্ছে। এজন্য আমাদের সামর্থের মধ্যে এক টাকা করে কমানো হল। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ৪০০ কোটি টাকা সরকারের ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন অফিসাররা।
এদিকে, মমতার এই ঘোষণার কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির। তাদের কথায়, অনেক দেরিতে মাত্র এক টাকা দাম কমিয়ে রাজ্যের মানুষের যন্ত্রণার সঙ্গে চরম রসিকতা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কংগ্রেস তথা বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী এদিন এক সুরে বলেন, এদিনও পেট্রপণ্যের দাম কেন্দ্র লিটার প্রতি ১৪ পয়সা বাড়িয়েছে। সেই অর্থে রাজ্য সরকারের এই ছাড় বাস্তবে মাত্র ৮৬ পয়সা দাঁড়াবে। সবচেয়ে বড় কথা, সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এক-দু’টাকা দাম কমিয়ে কোনও লাভ হয় না। অথচ তিনিই এদিন এক টাকা কমানোর ঘোষণা করেছেন। আসলে পেট্রপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সোমবার হরতালের বহর দেখে মুখ্যমন্ত্রীর টনক নড়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু রাজ্য ইতিমধ্যে তাদের করের অংশ কমিয়ে মানুষকে কিছুটা সুরাহা দেওয়ার উদ্যোগ দেখিয়েছে। তাই দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে এই ঘোষণা করেছেন মমতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com